বিশেষায়িত এডুকেশন টিভি চ্যানেল কেন জরুরি

শেয়ার করে আমাদের পাশে থাকুন ।

টেলিভিশনের চেহারা প্রথম দেখেছি ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের মিলনায়তনে। সে এক বিরল অভিজ্ঞতা। তার আগে খবর আর গান শুনেছি রেডিওতে। শোনা যায়, দেখা যায় না খবর-পাঠক বা গায়ক-গায়িকাকে। কেউ না কেউ বলছে যন্ত্রের ভেতর থেকে। ভেতর থেকে বলতে থাকা মানুষটাকে যে সশরীরে দেখা যাবে যন্ত্রের পেটের মধ্যে, তা ছিল না ভাবনার চৌহদ্দির মধ্যেও।

তবে শুনেছিলাম রেডিওর খবরে, এ রকম কিছু একটা ঢাকা শহরে নাকি শুরু হয়েছে। সেটি ১৯৬৪ সালের কথা- যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি কুমিল্লার এক অজপাড়াগাঁয়ের স্কুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে টেলিভিশন সেট দেখলাম, দেখলাম এর সাদাকালো রূপ। যন্ত্রটার পেটে গান হচ্ছে, নাটক আর খবর হচ্ছে। মিলনায়তনভর্তি বিনোদনাচ্ছন্ন ছাত্ররা খুশিতে হাততালি দিচ্ছে। তখন এ কথা ঘুণাক্ষরেও মনে হয়নি যে, সাধারণ বিনোদনের বাইরে গিয়ে একদিন এ যন্ত্রটিই হবে শিক্ষাদান আর শিক্ষা প্রসারের সীমান্ত পাড়ি দেয়া এক মোক্ষম হাতিয়ার।

১৯৬৮ থেকে ২০২০। বায়ান্ন বছর পর আজ বৈশ্বিক মহামারীর আতঙ্কজনক সময়ে আমরা দেখছি কীভাবে বিভিন্ন দেশ ঘরবদ্ধ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলোর ভেতরে রাখার জন্য শিক্ষামূলক টেলিভিশন চ্যানেল স্থাপন করেছে এবং এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে। আমরা বাংলাদেশেও কি পারি না এমন একটি বিশেষায়িত শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করতে, যা শিক্ষাকে করবে আপামরসাধারণের জন্য সুলভ এবং পৌঁছে দেবে জনগণের দোরগোড়ায়?

যে দেশের বিশ্বস্বীকৃত সৃজনশীল সরকার ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে মাত্র কয়েক বছরে উন্নয়নের চমক দেখিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে, ভৌগোলিক দিক থেকে অতি ছোট্ট একটি দেশ হয়েও জাতির পিতার নাম খোদাই করে একটি স্যাটেলাইট মহাশূন্যে উড়িয়ে দিতে পারে, সে দেশ কেন পারবে না একটি সত্যিকারের শিক্ষিত জাতি তৈরির লক্ষ্যে নিবেদিত টিভি চ্যানেল চালাতে?

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ থেকেই তো আমরা পারি স্বল্প খরচে শিক্ষণীয় প্রোগ্রাম আর লাইভ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে সমতল অঞ্চলসহ কয়েক ডজন ক্ষুদ্র দ্বীপাঞ্চল, চরাঞ্চল আর জলাঞ্চলকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে এসে সর্বশ্রেণির নাগরিকদের দক্ষ করে তুলতে।

কত কত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে- নিঝুম দ্বীপ, স্বপ্ন দ্বীপ, রমনাবাদ দ্বীপ, সন্দ্বীপ, জালিয়া দ্বীপ, মনপুরা, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া, হাতিয়া, মহেশখালী আর সোনাদিয়া। আছে মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে বহু চরাঞ্চল, যেমন- আশার চর, আন্ধার চর, দুবলার চর, বুড়ির চর, পক্ষীর চর, দিমার চর, বল্লার চর, উড়ির চর, ডাল চর, জাহাজের চর (স্বর্ণদ্বীপ), চরলক্ষ্মী, চরমনিকা, চরমন্তাজ, চর কুকরিমুকরি, চর বাগালা, চর নিজাম, চর লক্ষ্মী, চর গাজী, চর ফয়জুদ্দিন, রাঙাবালি এবং আরও অনেক।

আরও আছে বহু জলাঞ্চল, যেগুলোর কোনো কোনোটা বছরে প্রায় ছয় মাস ডুবে থাকে পানিতে- এগুলো দেখা যায় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ বিভিন্ন এলাকায়। দুর্গম এসব এলাকায় শিক্ষাবঞ্চিত থাকে অনেক মানুষ। স্যাটেলাইট ব্যবহারের মাধ্যমে একটি টিভি চ্যানেল দিয়ে তাদের নিয়ে আসা যায় শিক্ষার আওতায়। শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব এসব এলাকায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আর ব্যবসায়ী। এতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে সব দ্বীপ, চরাঞ্চল আর জলাঞ্চল। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার এটি হতে পারে একটি চমৎকার উদাহরণ।

অনলাইন শিক্ষায় বাস্তব অসুবিধার কারণে সারা দেশে ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ অতি প্রকট। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগের পক্ষে ল্যাপটপ বা পিসি কেনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। মোবাইলের মাধ্যমে ক্লাস করা সম্ভব হলেও লিখিত পরীক্ষা দেয়া যথেষ্ট অসুবিধাজনক। তার সঙ্গে আছে ইন্টারনেট খরচ আর ইন্টারনেটের গতির মন্থরতা।

সবকিছু মিলে গ্রাম আর শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল বিভেদ বাড়ছেই এবং এটি সহজে দূর হওয়ার নয়। একমাত্র স্যাটেলাইটভিত্তিক টিভির মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রান্সমিশন করে সারা দেশের চরাঞ্চল, জলাঞ্চল আর দ্বীপাঞ্চলগুলোকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে প্রত্যেক ব্লকে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে অতি সুলভে শিক্ষাবঞ্চিত জনগণকে, মূলত শিশু-কিশোর-তরুণদের শিক্ষিত করে তোলা যায়। সেসব এলাকায় দক্ষ শিক্ষকের অভাবও দূর করা যায়।

বর্তমানের টিভি চ্যানেলগুলো মূলত সংবাদনির্ভর এবং বিনোদনমূলক। আনন্দ-বিনোদনের ওপরই এগুলো সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় (নিউজ চ্যানেলগুলো শুধু ব্যতিক্রম)। বাণিজ্যই প্রধান লক্ষ্য। দু-একটিতে মাঝেমধ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত কিছু অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলেও সেগুলো ওদের গৌণ বিষয়। সাধারণত অফ-টাইমে চ্যানেলগুলো স্বল্পসময়ের জন্য শিক্ষা-অনুষ্ঠান প্রচার করে, যার কারণে শিক্ষার্থীরা এসব সম্প্রচারের সুফল ভোগ করতে পারে না।

গুরুত্বহারা এসব অনুষ্ঠানের তেমন কোনো দর্শকপ্রিয়তা নেই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও এ বিশাল ক্ষেত্রটির জন্য একটি বিশেষায়িত টিভি চ্যানেলের কথা কখনও ভাবা হয়নি। বিশেষায়িত শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেলের ব্যাপক সামাজিক প্রভাব সর্বজনস্বীকৃত।

এরূপ টিভি চ্যানেল শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর এবং শক্তিশালী শিখন-হাতিয়ার হতে পারে। শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষাবিনোদন (এডুটেইনমেন্ট) তথা আমোদমূলক ও আগ্রহ-উদ্দীপক বিষয়গুলো সহজে বোধগম্য করে শিক্ষা চ্যানেলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা সম্ভব।

কোনো কোনো দেশে বয়স্কদের জন্যও শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট্ট দ্বীপদেশ ‘ভানুয়াতু’ শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেলে তরুণ সমাজ এবং বয়স্কদের জন্য নিয়মিত শিক্ষামূলক বিষয়াদির ওপর অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। টিভি চ্যানেলটি পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য, সুস্থ যৌন-আচরণ, সাক্ষরতা, সংক্রামক রোগ যেমন- এইডস, বিভিন্ন রকমের ভাইরাসজনিত রোগ ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ আগ্রহ-উদ্দীপক বিষয়গুলোর ওপর বিনোদনমূলক গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের শিক্ষাদানের কর্মসূচি হাতে নিয়ে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে।

একটি নিবেদিত শিক্ষামূলক টেলিভিশন চ্যানেল (ডেডিকেটেড টিভি চ্যানেল) বাংলাদেশে থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে বিতর্ক করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। প্রয়োজনের বিষয়টি প্রায় সর্বজন স্বীকৃত। এখন দরকার এটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রস্তাবিত চ্যানেলটি হবে গতানুগতিক চ্যানেলগুলো থেকে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। এটি হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি বিশেষায়িত শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল, যা অবাণিজ্যিক ‘প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে শুধু শিক্ষা সংক্রান্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

টিভি চ্যানেলটির মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে অনুষ্ঠান প্রোডাকশন ও সম্প্রচার করা যেতে পারে। যেমন- ১. স্টুডিওভিত্তিক লাইভ প্রোডাকশন : অনুষ্ঠানের রিসোর্স পারসন স্টুডিওতে ক্যামেরার সামনে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করবেন। ক্যামেরায় ধারণকৃত ইমেজ ইলেকট্রিক সিগন্যালে পরিণত হয়ে ‘প্রোডাকশন কনট্রোল অটোমেশনের’ ভিডিও সুইচারে চলে যাবে।

প্রোডাকশনটি মাল্টি-ক্যামেরায় হলে প্যানেল প্রডিউসারের নির্দেশ অনুসারে বিভিন্ন ক্যামেরার আউটপুট সিগন্যাল পর্যায়ক্রমে ভিশন মিক্সারের মাধ্যমে প্রোডাকশন কন্ট্রোল অটোমেশন ডিভাইসে আসবে। তারপর মাস্টার কন্ট্রোল অটোমেশনের মাধ্যমে আর্থস্টেশনে প্রেরণ করা হবে। আর্থস্টেশনের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রেরিত রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি সিগন্যাল স্যাটেলাইটে গ্রাহক যন্ত্রের মাধ্যমে রিসিভ করা হবে। প্রেরক যন্ত্রের মাধ্যমে টিভি সিগন্যাল তৈরি করে টেলিভিশন সেটে প্রেরণ করা হবে।

ফলে দর্শক সরাসরি সম্প্রচারকৃত অনুষ্ঠান টেলিভিশন সেটে দেখতে পাবেন। ২. আউটডোর লাইভ প্রোডাকশন ও সম্প্রচার : কখনও কখনও আঞ্চলিক প্রোগ্রাম এ চ্যানেলের মাধ্যমে সম্প্রচার করার প্রয়োজন হবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্র ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র বা দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের প্রয়োজন হলে মোবাইল প্রোডাকশন ইউনিটের মাধ্যমে প্রচার করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে ফাইবারভিত্তিক বা আইপিভিত্তিক লাইভ ডিভাইসের মাধ্যমে সিগন্যাল প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুমে প্রেরণ করা হবে। প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুম থেকে মাস্টার কন্ট্রোল অটোমেশনের মাধ্যমে সিগন্যাল আর্থস্টেশনে প্রেরণ করা হবে এবং স্টুডিওভিত্তিক প্রোডাকশনের মতো একই পদ্ধতিতে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

ব্যাকপ্যাক ইউনিটের মাধ্যমেও ক্ষুদ্র পরিসরে সরাসরি টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যাবে। ৩. প্রি-রেকর্ডেড প্রোডাকশন ও সম্প্রচার : অনুষ্ঠান (স্টুডিওভিত্তিক বা আউটডোরভিত্তিক) প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুমে রেকর্ডিং ডিভাইসে রেকর্ড করার পর পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠানটি ভিডিও এডিটিং ইউনিটে সম্পাদনা করে তার সঙ্গে ভিডিও অ্যাফেক্ট, সাউন্ড অ্যাফেক্ট, গ্রাফিক্স অ্যান্ড অ্যানিমেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ইত্যাদি সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ টিভি অনুষ্ঠান তৈরি করা হবে।

সম্প্রচার সিডিউল অনুযায়ী, মাস্টার কন্ট্রোল রুমের প্লে-আউট সিস্টেম/ডিভাইসের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আর্থস্টেশনে প্রেরণ করা হবে এবং স্টুডিওভিত্তিক প্রোডাকশনের মতো একই নিয়মে সম্প্রচার করা হবে। ফলে দর্শক আগে রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠান টিভি সেটে দেখতে পাবেন।

৪. ক্লাউড স্টোরেজের ব্যবহার : এ চ্যানেলটির সম্প্রচার ব্যবস্থার একটি বিশেষ দিক হল, কোনো কারণে কোনো দর্শক কাঙ্ক্ষিত অনুষ্ঠান দেখতে না পেলে তা পরবর্তী সময়ে ক্লাউড সার্ভার থেকে ডাউনলোড করে সুবিধাজনক সময়ে দেখতে পারবেন। অনুষ্ঠানগুলো বাউবির নিজস্ব ‘ওপেন এডুকেশনাল রিসোর্স রিপোজিটরি’তেও আপলোড করা থাকবে। ‘ওপেন ব্রডকাস্টিং’-এর জন্য ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের মাধ্যমে মাঠে-ময়দানে থেকে সরাসরি টিভি প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা যাবে।

এ চ্যানেলটি হবে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম। বাউবি শুধু কেন্দ্রীয় হাব হিসেবে এটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। চ্যানেলটি চলবে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা। থাকবে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র, কুইজ, শিক্ষা-বিনোদনসহ শিক্ষা-সমাচার ও তথ্যসহ অন্যান্য শিক্ষামূলক প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি। বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের দিয়ে অডিও-ভিডিও প্রোগ্রাম তৈরি করানো হবে, কন্টেন্ট বানানো হবে।

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও অনুমতি সাপেক্ষে চ্যানেলের মিডিয়া টিম ‘এক ক্যামেরা এক লাইট’ পদ্ধতিতে লাইভ সম্প্রচার করতে পারবে। থাকবে বিনামূল্যে ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ সুযোগ। ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’-এর মাধ্যমে দর্শক টিভি স্টেশনের ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত ‘কন্টেন্ট গুদামঘর’ থেকে চাহিদামাফিক পছন্দমতো ভিডিও কন্টেন্ট/পাঠ্য সংক্রান্ত শিক্ষাসামগ্রী টিভি সেটে/কম্পিউটারে দেখতে/পড়তে পারবেন।

শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল সম্পর্কে আমরা শিখতে পারি অন্যান্য দেশ থেকেও। শিক্ষামূলক টেলিভিশন ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে যেসব দেশের, তারা হতে পারে আমাদের উদাহরণ। যেমন- ব্রাজিল, চীন, ইথিওপিয়া, ঘানা, ভারত, মেক্সিকো ও নিউজিল্যান্ড।

এপ্রিল থেকে চিলিতে ‘টিভি এডুচিলি’ নামে একটি শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল চালু করা হয়েছে। পাকিস্তানে রয়েছে ‘টেলিস্কুল চ্যানেল’ (চলে সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত), যার অনুষ্ঠানগুলো টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট এবং ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটিতে অনেক বছর ধরেই চলছে নিজস্ব টিভি চ্যানেল ‘জ্ঞানদর্শন টিভি’।

নিউজিল্যান্ডে চালু করা হয়েছে ‘পাপা কাইনগা’ নামক শিক্ষা সম্প্রচার কার্যক্রম এবং টিভিএনজেড ভিডিও অন ডিমান্ড। দীর্ঘদিন নানা কারণে স্কুল বন্ধ থাকার পর বা সেসময়ে টেলিভিশন ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন দেশ, যেমন-কোরিয়া, আমাদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। মরক্কো সরকার সে দেশের একটি চব্বিশ ঘণ্টার স্পোর্টস চ্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত করে তার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে।

জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সারা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী উভয়েই প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন এবং অনলাইনে দূরশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

এ বছর বাজেটে শিক্ষার জন্য বরাদ্দও বাড়িয়েছেন। তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে মিল রেখে বলতে চাই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী যাতে সর্বোত্তম পাঠদান ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত না হয়- সে জন্যই একটি শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

ড. এম এ মাননান : কলামিস্ট; উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

Copy-past


শেয়ার করে আমাদের পাশে থাকুন ।

Leave a Reply