নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ

৪০৩২ জনকে নিয়োগ দেবে মাউশি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এর আওতাধীন অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব খাতভুক্ত ২৮ ধরনের পদে ৪০৩২ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হবে অফিস সহায়ক (১৯৩২) ও অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (৫১৩) পদে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যেভাবে পরীক্ষা

নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রূপক রায় বলেন, আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হবে ৩০ নভেম্বর ২০২০। এরপর যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হবে। পরীক্ষার প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময়সূচি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এসব ব্যাপারে মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিগত বছরগুলোতে অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার মতোই প্রিলিমিনারি, লিখিত, ব্যাবহারিক (কিছু কিছু পদে), ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছিল।

পদের নাম ও পদসংখ্যা

১. প্রদর্শক (পদার্থ) : ১০৯টি, ২. প্রদর্শক (রসায়ন) : ১২০টি, ৩. প্রদর্শক (জীববিজ্ঞান) : ৩১টি, ৪. প্রদর্শক (প্রাণিবিদ্যা) : ১০৯টি, ৫. প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) : ৯৬টি, ৬. প্রদর্শক (ভূগোল) : ১৩টি, ৭. প্রদর্শক (মৃত্তিকাবিজ্ঞান) : ৫টি, ৮. প্রদর্শক (গণিত) : ২২টি, ৯. প্রদর্শক (গার্হস্থ্য) : ৮টি, ১০. প্রদর্শক (কৃষি) : ১টি, ১১. গবেষণা সহকারী (কলেজ) : ২১টি, ১২. সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার : ৬৯টি, ১৩. ল্যাবরেটরি সহকারী : ৬টি, ১৪. সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর : ৫টি, ১৫. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর : ৪টি, ১৬. উচ্চমান সহকারী : ৮৫টি, ১৭. অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক : ৫১৩টি, ১৮. ক্যাশিয়ার/স্টোরকিপার : ৩৪টি, ১৯. হিসাব সহকারী : ১০৬টি, ২০. ক্যাশিয়ার : ৮৫টি, ২১.

স্টোরকিপার : ৫০টি, ২২. মেকানিক-কাম-ইলেকট্রিশিয়ান : ৩৩টি, ২৩. গাড়িচালক : ১১টি, ২৪. বুক সর্টার : ৪৬টি, ২৫. অফিস সহায়ক : ১৯৩২টি, ২৬. নিরাপত্তা প্রহরী : ২৫৫টি, ২৭.

মালি : ১০০টি, ২৮. পরিচ্ছন্নতাকর্মী : ১৬৩টি।

আবেদনের যোগ্যতা

প্রতিটি পদে আবেদনের জন্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমা আলাদা। পদভেদে পঞ্চম শ্রেণি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী থেকে শুরু করে স্নাতক (সম্মান), বিবিএ, স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। পদভেদে আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমার শর্তাবলি জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন এই লিংক থেকে—

www.dshe.gov.bd/site/view/notices

আবেদনের বয়সসীমা

প্রার্থীর বয়স ১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর। বয়স প্রমাণের জন্য এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।

আবেদনের নিয়ম

আগ্রহী প্রার্থীরা (dshe.teletalk.com.bd) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন। ওই সময়ের মধ্য ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনপত্র সাবমিটের সময় থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্য টেলিটক অপারেটর দিয়ে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে।

নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ

►  বিশেষ পদে বিশেষ প্রস্তুতি

প্রদর্শক পদগুলোর প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টের খুঁটিনাটি জানতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সম্মান শ্রেণির মৌলিক বইগুলো পড়া যেতে পারে। আর সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কম্পিউটার অপারেটর পদগুলোর জন্য কম্পিউটারের ব্যাবহারিক জ্ঞান থাকতে হবে। তাই এ বিষয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

►  বিগত বছরের প্রশ্নের সমাধান

যেকোনো পরীক্ষার ক্ষেত্রেই বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধান খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে পরীক্ষার প্রশ্ন কোন ধরনের হতে পারে, প্রশ্নপত্রে কোন কোন বিষয়বস্তুর ওপর সাধারণত প্রশ্ন আসে এসব বিষয় জানা যাবে। তাই যে পদে পরীক্ষা দেবেন, সেসব পদের বিগত বছরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো বুঝে বুঝে সমাধান করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু নোট খাতায় তুলে রাখা যেতে পারে।

►  গণিত হতে পারে ট্রাম্প কার্ড

পরীক্ষায় ভালো করার জন্য গণিতকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বেশির ভাগ সময় গণিতে ভালো-খারাপের ওপর পরীক্ষার ভালো-খারাপ নির্ভর করে। গণিতে দক্ষ হওয়া বা ভালো করার মানেই হলো প্রস্তুতি বা পরীক্ষায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকা। গণিতের ভিত্তি মজবুত করার জন্য পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের অঙ্কগুলো টপিক ধরে ধরে অনুশীলন করা যেতে পারে। এ ছাড়া বাজারের ভালো মানের কোনো চাকরির প্রস্তুতির গাইড বই থেকে অনুশীলন করা যেতে পারে।

►  ইংরেজিতে দক্ষ হোন

আজকাল ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া ছাড়া চাকরি পরীক্ষার বৈতরণি পার হওয়া দুরূহ হয়ে যাচ্ছে। তাই ইংরেজির মৌলিক জ্ঞান বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকলে পিসি দাসের বই পড়া যেতে পারে। আর যাঁরা ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষ, তাঁরা বাজারের প্রচলিত ভালো মানের যেকোনো একটা গাইড বই থেকে বিগত সময়ে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো সমাধান করতে পারেন। ইংরেজিতে ভালো করার জন্য নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়তে পারেন। পত্রিকা পড়ার সময় অজানা, কঠিন শব্দগুলো নোট খাতায় লিখে অর্থসহ মুখস্থ করে নেওয়া যেতে পারে। তারপর সেগুলো দিয়ে বাক্য গঠন করলে মনে থাকবে। এভাবে কয়েক মাস পড়লে ইংরেজিভীতি দূর হওয়ার পাশাপাশি ভোকাবুলারিও সমৃদ্ধ হবে।

►  সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হন

সাধারণ জ্ঞান বিষয়টা সাধারণই। তবে চাকরি পেতে হলে এ বিষয়ে অসাধারণ হতেই হবে। কঠিন কোনো বিষয় না, তাই বলে হেলাফেলারও সুযোগ নেই। দেশ-বিদেশের খবর ও তথ্যমূলক বিষয়গুলোর নিয়মিত জানার মাধ্যমে আপডেট থাকুন। পাশাপাশি নোট করে রাখতে পারেন, যাতে পরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়।

সাধারণ জ্ঞানের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। তবু গুরুত্বপূর্ণ টপিক ধরে পড়তে পারলে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্নই কমন আসবে। প্রচলিত সাধারণ জ্ঞান বইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলো (প্রিন্ট বা অনলাইন) পড়া যেতে পারে।

►  বাংলার প্রস্তুতি হোক জোরালো

প্রায় সব চাকরির পরীক্ষায়ই বাংলা বিষয়ের জন্য আলাদা নম্বর বরাদ্দ থাকে।

বাংলা বিষয়ে সাধারণত দুই ধরনের প্রশ্ন আসে—ক) বাংলা সাহিত্য ও খ) বাংলা ব্যাকরণ। বাংলা সাহিত্যের প্রস্তুতির জন্য বাংলা সাহিত্য অঙ্গনের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের কর্ম ও তাঁদের জীবনী ভালো করে পড়তে হবে। তবে সম্প্রতি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে বাংলা সাহিত্যের চেয়ে বাংলা ব্যাকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে। বেশি নম্বর পেতে হলে বাংলা ব্যাকরণের মৌলিক বিষয়গুলো খুব ভালো করে বুঝে বুঝে পড়তে হবে। এ জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই পড়া যেতে পারে।

►  কম্পিউটারে ব্যাবহারিক দক্ষতা বাড়ান

কম্পিউটারে প্রস্তুতির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বাজারের ভালো মানের কোনো গাইড বই থেকে বিগত সালে আসা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করতে পারলে ভালো কাজে দেবে।

কম্পিউটারে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যাবহারিক জ্ঞানেরও দরকার হয়। প্রিলিমিনারিতে তাত্ত্বিক বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে।

অন্যদিকে কিছু পদের জন্য কম্পিউটারের ব্যাবহারিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এ জন্য এখন থেকেই কম্পিউটারের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যাবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply